হে জ্যোতির্ময়


 আজ ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ১৫ ই আগস্ট কাকডাকা ভোরে মসজিদে যখন মোয়াজ্জিন আজান দিচ্ছিল হায়আলাস-সালা, হায়আলাস-সালা,হাইআলাল-ফালাহ হাইআলাল-ফালাহ আর বলছিল, হে মুমিনগণ মসজিদের দিকে এসো, মসজিদের দিকে এসো ঠিক সেই মুহুর্তে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মদদে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র আর পাকিস্তানের সি,আই,এর গোপন তৎপরতায় তাদের এদেশীয় দোষররা সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে মেজর জিয়ার নেতৃত্বে কিছু বিপথগামী সেনাদের দিয়ে ১৫ ই আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিৃ, বাঙ্গালীর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠসন্তান, বাঙ্গালী জাতির মুক্তিদাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে। আওয়ামীলীগ সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা খুনি মোস্তাক, তাহের ঠাকুর, মাহবুব আলম চাষী সহ অনেকে সেদিন বঙ্গবন্ধু হতাার সাথে জড়িত ছিল। দেশবাসী যাচ চায়, সব ক্ষেত্রে তার প্রাপ্তি ঘটে না বুঝি! নইলে আব্রাহাম লিংকন ঘাতকের হাতে প্রান দিবেন কেন! তাঁর এমন মৃত্যু কি কেউ কামনা করেছিল? কেউ কি কামনা করেছিল গান্ধীজীর উন্মুক্ত বক্ষ বুলেটের আঘাতে বিদীর্ণ হবে অথবা মার্টিন লুথার্কিং-এর প্রানহীন দেহ এমনি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে ঘাতকের অস্ত্রাঘাতে। আমরা জানি তবুও মহৎ মানুষের মৃত্যু নাই। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই দু’টি বিখ্যাত লাইন মনে পড়ছে আজ। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যেই আজ সেই লাইন দুটি অন্তরের সব শ্রদ্ধা আর ভালবাসার দরদ ঢেলে দিয়ে মনে মনে উচ্চারণ করছিঃ

“এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রান
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান”
চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু; তোমাকে হাজারো সালাম।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে, তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস স্বাধীনতা যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে সেদিন আমরা এদেশটি স্বাধীন করেছিলাম। ১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারী পাকিস্তানের জিন্দানখানা মিনওয়ালী কারাগার থেকে লন্ডন, দিল্লী হয়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে ফিরে আসলেন। যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুর্নগঠনে আত্মনিয়োগ করলেন। সে সময় দেশের ২৯২ টি রেল সেতু ছিলনা। হাজার হাজার সড়ক সেতু যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের সাথে ইউনিয়ন, ইউনিয়নের সাথে থানা, থানার সাথে মহকুমা, মহকুমার সাথে জেলা ছিল সম্পূর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন। ব্যাংকে টাকা ছিলনা। গুদামে খাবার ছিলনা। গোল্ড রিজার্ভ ছিলনা। এমনি একটা পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্যস্থ দেশের দায়িত্ব নিলেন। সারা বিশ্বের কাছে স্বীকৃতি চাইলেন, দেশ গঠনে সহযোগিতার জন্য বিশ্ববাসীর কাছে উদাত্ত্ব আহ্বান জানালেন। অ-সাম্প্রদায়ীক চেতনায় দেশ গড়ার লক্ষে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা জাতীয় চার মূলনীতি সংবিধানে সন্নেবেশিত করে ১৯৭২ সালে সংবিধান দিলেন। সদ্য স্বাধীন দেশের সাধারণ মানুষের ম্যান্ডেট গ্রহনের জন্য ১৯৭৩ সালে সাধারণ নির্বাচন দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের নব যাত্রা শুরু করলেন। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হয়েও বঙ্গবন্ধু কোনদিন সরকারি বাস ভবনে ছিলেন না। বাঙ্গালীর অকৃত্রিম ভালবাসা আর বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের সুতিকাগার, বাঙ্গালীর ঠিকানা ঢাকার ৩২ নং এর নিজ বাড়ীতেই থাকতেন।

     পাকিস্তানি মতাদর্শে বিশ্বাসী জামাত, ইসলামী ছাত্র সংঘ (পরবর্তিতে ইসলামী ছাত্র শিবির), রাজাকার, আলবদর, আলসামস বাহিনীর সমর্থক দীর্ঘ ৯ মাস স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যিনি ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় পাকিস্তানি জেনারেল জানজুয়ার আতিথেয়তায় আনন্দ ফূর্তিতে দিন কাটিয়েছে, মুক্তাঞ্চল থেকে তার স্বামী মেজর জিয়া বন্ধুদের মাধ্যমে পর পর ৩ টি চিঠি দিয়েও খালেদাকে তার কাছে নিতে পারেনি উপরন্ত সে সময় খালেদা তার প্রত্ব্যুত্তরে মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করে বলেছিল, "এ-যুদ্ধ বিচ্ছিন্নতা বাদীদের যুদ্ধ" আমি খালেদা তোমার কাছে যাব না। কোন বাঙ্গালী কুল-বধূ কি স্বামীর ডাকে সাড়া না দিয়ে পারে? কিসের আশায়, কিসের নেশায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে কাটালেন তা খালেদা জিয়া নিজেই বলতে পারেন। ৭৫ এর আগস্টের প্রাক্কালে সহধর্মিনী খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণায় মেজর জিয়া যে ১৫ ই আগস্ট হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল নিম্নের তথ্যে তার সাক্ষাত প্রমান পাওয়া যায়।

১৯৭৬ সালের ২ আগস্ট ব্রিটেনের আই,টিভি মুজিব-হত্যা সম্পর্কে ফারুক ও রশিদের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। ‘এ্যাস্থনী ম্যাসকারেনহাস’ গৃহীত এই সাক্ষাৎকারে “মেজরদের” মুখপাত্ররা স্বীকার করে, ১৫ ই আগস্টের হত্যাকান্ডের আগে তারা জে, জিয়া ও খন্দকার মোস্তাক এর সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করে। ফারুক রাজনৈতিকপট-পরিবর্তনের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তাব নিয়ে ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ সন্ধাবেলা জে, জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে জে, জিয়া বলে “তোমরা এগিয়ে যাও” (British I tv on 2 August, 1976)। ১৯৭৫ সালের ১৪ ই আগন্ট দিবাগত রাত ১ টায় মেজর রশিদ, মেজর ডালিম, মেজর নূর চৌধুরী, মেজর শাহরিয়ার, মেজর বজলুল হুদা এবং মেজর রশিদের অধিনস্ত আরো কিছু সংখ্যক অফিসার “তৎকালীন ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাপ জিয়া’র কাছে আসে। এদের মধ্যে অনেকেই সিভিল পোশাকে ছিল। সেই মধ্য রাতে আলাপের মাঝখানে জিয়া ‘ইনস্টিগেট’ (প্ররোচিত), করে বলেছিলেন, “দেশ বাঁচানোর জন্য কিছু একটা করো”। মে, জিয়া যে ১৫ ই আগস্টের নারকীয় হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল তা উপরোক্ত সাক্ষাৎকারেই প্রমানীত হয়।

প্রেসিডেন্ট পদ দখল করার পর জিয়া ১৫ ই আগস্ট হত্যাকান্ডে জড়িতদের মধ্যে যারা ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর মধ্য রাতে ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানে ব্যাংকক চলে যায়, তাদের সধ্যে ১২ জনকে ১৯৭৬ সালের ৮ই জুন কুটনৈতিক পদে নিয়োগ দান করে। তৎকালীন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা শমসের মোবিন চৌধুরী (বর্তমান বি,এন,পি'র চেয়ারপার্সন খালেদি জিয়ার পদত্যাগী উপদেষ্টা) লিবিয়ায় গিয়ে তাদের হাতে হাতে নিয়োগ পত্রগুলি দিয়ে আসেন।

নিয়োগ প্রাপ্ত কুটনৈতিক পদে নিয়োজিত অফিসারদের নামঃ-

  • ১। লে, কর্নেল শরিফুল হক (ডালিম), প্রথম সচিব (চীন)
  • ২। লে, কর্নেল আজিজ পাশা, প্রথম সচিব (আর্জেন্টিনা)
  • ৩। মেজর মহিউদ্দীর, দ্বিতীয় সচিব (আলজেরিয়া)
  • ৪। মেজর শাহরিয়ার,দ্বিতীয় সচিব (ইন্দোনেশিয়া)
  • ৫। মেজর বজলুল হুদা, দ্বিতীয় সচিব (পাকিস্তান)
  • ৬। মেজর রশীদ চৌধুরী, দ্বিতীয় সচিব (সৌদি আরব)
  • ৭। মেজর নূর, দ্বিতীয় সচিব (ইরান)
  • ৮। মেজর শরিফুল হোসেন, দ্বিতীয় সচিব (কুয়েত)
  • ৯। ক্যাপটেন কিসমত হোসেন, তৃতীয় সচিব (আবুধাবী)
  • ১০। লে, খায়রুজ্জামান, তৃতীয় সচিব (মিসর)
  • ১১। লে, নাজমুল হোসেন, তৃতীয় সচিব (কানাডা)
  • ১২। লে, আব্দুল মজিদ, তৃতীয় সচিব (সেনেগাল)

বিএনপি সরকারে আমলে ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এদের সকলকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (ফরেন সার্ভিস ক্যাডার) আত্মীকরন করা হয়। এর আগে তাদের সবাই সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রনালয়ে নিয়োজিত ছিল। জে, জিয়া তার গোপন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৫। মেজর বজলুল হুদা, দ্বিতীয় সচিব (পাকিস্তান)
৬। মেজর রশীদ চৌধুরী, দ্বিতীয় সচিব (সৌদি আরব)
৭। মেজর নূর, দ্বিতীয় সচিব (ইরান)
৮। মেজর শরিফুল হোসেন, দ্বিতীয় সচিব (কুয়েত)
৯। ক্যাপটেন কিসমত হোসেন, তৃতীয় সচিব (আবুধাবী)
১০। লে, খায়রুজ্জামান, তৃতীয় সচিব (মিসর)
১১। লে, নাজমুল হোসেন, তৃতীয় সচিব (কানাডা)
১২। লে, আব্দুল মজিদ, তৃতীয় সচিব (সেনেগাল)

বিএনপি সরকারে আমলে ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এদের সকলকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (ফরেন সার্ভিস ক্যাডার) আত্মীকরন কর যে-সব অফিসার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সমর্থক ছিলেন, তাঁদের প্রায় সকলকে পদচ্যুতি ও কয়েক হাজার সেনা বাহিনীর সদস্য কে দফায় দফায় হত্যার মাধ্যমে বিদায় করে দেয়। শেষ পর্যন্ত সে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতিবিদ, রাজাকার ও অন্যান্য যারা ১৯৭১ সালে পাক-সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে সহযোগীতা করে, তাদের সরকারী চাকুরী, মন্ত্রীসভায় সদস্য পদ এবং ব্যবসা-বানিজ্য বিষয়ক সুযোগ সুবিধা দিয়ে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করে। কমপক্ষে ৬ জন রাজাকার পাকিস্তান সমর্থক জিয়ার মন্ত্রসভায় স্থান লাভ করে। তাদের মধ্যে শাহ্ আজিজুর রহমানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা হলঃ

  • ১। মসিউর রহমান (সিনিয়র মন্ত্রী)ঃ মুক্তিযুদ্ধের আগে ও মুক্তিযুদ্ধকালে ভুট্রোর সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রক্ষা করে।
  • ২। শাহ্ আজিজুর রহসান (শ্রমমন্ত্রী, পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী)ঃ জাতিসংঘে বক্তৃতাদানকালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক অভিযান সমর্থন করে।
  • ৩। শামসুল হুদা চৌধুরীঃ মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান রেডিও থেকে বাংলাদেশ-বিরোধী প্রচারণা চালায়।
  • ৪। মির্জা গোলাম হাফিজঃ মুক্তিযোদ্ধাকালে পাক-চীন মৈত্রী সমিতির প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রদত্ত বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধকে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের ফল বলে দাবী করে।
  • ৫। শফিউল আজমঃ পাকিস্তান সমর্থক উচ্চপদস্থ সরকারী অফিসার।
  • ৬। আব্দুল আলীমঃ (প্রাক্তন পাকিস্তানি রেল চলাচল মন্ত্রী)ঃ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগীতার অপরাধে স্বাধীনতার পরে কারাদন্ডপ্রাপ্ত।

আজকের আলোচনায় একটি অপ্রিয় কথা হলেও আমাকে বলতে হচ্ছে— “বাঙ্গালী শুধু বীরের জাতি নয়, বেইমানেরও জাতি”। ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে মীর জাফর কিংবা জিয়া, মোস্তাক গংদের হিসাব কম নয়। এর মধ্যে মীর জাফর আলী বাঙ্গালী ছিলেন না। হাতেগোনা এসব বেইমান কিছু সময়ের জন্য সফল হলেও চুড়ান্ত ভাবে তারা স্থায়ী হতে পারেনি। মেহেরপুরের আওয়ামী রাজনীতিতে নেতৃত্বের দূর্বলতা আর অজ্ঞতার কারনে আজ প্রচন্ড নিরবতা চলছে। ভয় এখানেই। মনে রাখবেন—“গাছের পাতা যখন নড়ে না, ঝড়ের ভয় ঠিক তখননি”। স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির, বিএনপি এই অশুভ শক্তির জ্বালাও পোড়াও, জঙ্গি হামলা, নৈরাজ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা সহ দূরভিসন্ধী মোকাবেলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আর একারনেই আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের অজস্র নেতাকর্মীদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য প্রয়োজন, সবাইকে সতর্ক, সজাগ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকতেও এদেশে টু-শব্দটি পর্যন্ত হয়নি। ৭৫-এর ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হারানোর সময় আওয়ামীলীগের কোন নেতা যদি এর বিরুদ্ধে জনগনকে প্রতিরোধ করার আহবান জানাতেন, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে কেউ পারতনা। আওয়ামীলীগকেও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দীর্ঘ ২১ বছর অপেক্ষা করতে হতো না। কিন্তু আওয়ামীলীগের কোন নেতা সেদিন সাহস দেখাতে পারেনি। তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন জেলে গেছেন, বাকিরা পালিয়েছেন। আবার কেউ কেউ খুনি খন্দকার মোস্তাকের সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। কতিপয় উচ্চাভিলাষী মেজর জিয়া সমর্থিত সামরিক কর্মকর্তার এ অভ্যুত্থান সফল হয়েছে নেতৃত্বের দূর্বলতার কারনে।

আওয়ামীলীগের নেত-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ সহ স্বাধীনতা বিরোধী বি,এন,পি--জামাতের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও রুখে দিতে হবে। ক্ষমতাসীন দল হিসাবে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছেন। মনে রাখতে হবে, দল ক্ষমতায় থাকলে কিছু সুবিধা পেলে কোন নেতা-কর্মী ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হয় না। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন আজকের বাস্তবতার বিবেচনায় নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলেই তারা ঝুঁকি নিতে পারবে, সাহসী হয়ে উঠবে।

গুলশানের হোলি আর্টিসান, শোলাকিয়া, কল্যানপুর, কোটা সংস্কার আন্দোলন, অতি সম্প্রতি ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডে শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুজন ছাত্র-ছাত্রী বাস দূর্ঘটনায় নিহত হলে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিএনপি, জামাত-শিবির সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ঘটলে দেশকে অস্তিতিশীল করে তোলার ঘটনাকে খাটো করে দেখলে চলবে না।

বাংলা ভাই, শাইখ আব্দুর রহমান সহ বিএনপি-জামাতের জঙ্গীবাদী দুঃশাসনের দৌরাত্ম থেকে এদেশের মানুষকে মুক্তি দিতে সাহসী, আত্মপ্রত্যয়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। আগামী ৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিনত হবো ইনশাল্লাহ।

আজকের এ দিনে আমি জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি,।

———— বীর মুক্তিযোদ্ধা

আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন খান
সাবেক এম,পি-৭৩ মেহেরপুর-১

Thanks For You Reading The Post We are very happy for you to come to our site. Our Website Domain name https://www.atikurbd.com/.
নবীনতর পোস্টসমূহ নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ

আরও পোস্ট

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন