বর্তমান করোনা পরিস্থিতি এবং সরকারের উদাসীনতা


আমাদের সমাজে এক সময় বাল্য বিবাহের প্রচলন ছিল। ঠিক সেই সময় সখিনা নামের এক নাবালিকা বয়স আট কি নয় হবে বিয়ে হয় পাশের গ্রামে। এর মাঝে একটু বলে নিই সেটা হল আমাদের সমাজের মেয়েরা মা, চাচী, মাসী, পিসিদেরকে অনুসরণ করে এজন্য যে তাঁরা কিভাবে স্বামী, সংসার, সামাজিকতা রক্ষা করে সেগুলি আয়ত্বে আনার জন্য। সেই সাথে পোশাকের কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে শাড়ী বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে অদ্যবধি থেকে এপর্যন্ত রেওয়াজ বিদ্যমান। আর এই শাড়ী আমাদের সমাজের বাচ্চা মেয়েরা সভাবত তারা গামছা পরিধানের মধ্য দিয়েই অনুশীল করে থাকে।
ঠিক তার-ই এক নিদর্শন সৃষ্টি হয় নাবালিকা সখিনা চরিত্রে। একদিন বাড়ীর পাশে বাগানে সখিনা তার খেলার সাথিদের নিয়ে পুতুল খেলছিল। কিছুক্ষণ পরে তার সাথীরা দেখলো ঐ পখ ধরে পাশের গ্রামের সবদুল মানে সখিনার শশুর মশাই ঐ পথ ধরে চলে আসছে। তখন তারা সখিনাকে তাৎক্ষণিক ভাবে বিষয়টি অবগত করে। তখন সখিনা সাময়িক ভাবে হতবম্ব হয়ে পড়লেও তার অন্তত এটুকু চৈতন্যবোধ আছে যে শশুর ভাসুর দেখলে মাথায় কাপড় দিতে হয়। যা সে তার মা চাচীদেরকে এই নিয়ম মানতে এতদিন দেখে এসেছে। তা কি আর করা, যখন শশুর মশাই তার সন্নিকটে আসা মাত্রই সখিনা তখন তার পরিধানের গামছাটি খুলে অমনি মাথার ঘোমটা হিসাবে ব্যবহার করলো। এতে করে দেখা গেল যে অজ্ঞতার কারনে সখিনার মাথার আব্রু ঢাঁকা পড়লেও শরীরের আব্রু ঠিক-ই উলঙ্গ হয়ে গেল।
ঠিক এমনই একটি ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে যা আমাদের চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী প্রথম থেকে করোনা মোকাবিলাতে ব্যর্থ হলেও মাঝামাঝি জায়গায় এসে সারা দেশে লক ডাউনের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রনের মধ্যে একটা স্বাভাবিক এবং সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলেন। এর জন্য তিনি কিছুটা হলেও আমাদের কাছে প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু খেলার শেষের দিকে মানে করোনা যুদ্ধেের শেষ প্রান্তে এসে যখন এদেশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, সাদ্রাসা, দোকান বন্ধ তখন উনি কিভাবে, কোন দৃষ্টিকোন থেকে গার্মেন্টস শিল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিলেন এটা আমার সহ অধিকাংশ মানুষের মাথায় আসে না। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্প চালু করতে সারা দেশ থেকে শ্রমিক নেয়া হল ঢাকায়, যেখানে বিশেষজ্ঞদের ধারনা ঢাকা মানে করোনার উৎপাদন কেন্দ্র। আর সেই উৎপাদন কেন্দ্র থেকে মরণ ভাইরাস উৎপাদন করে আগামী ঈদুল ফিতরের ছুটি দিয়ে সেই সমস্ত গার্মেন্টস শ্রমিকের মাধ্যমে সমগ্র দেশে বাজার জাত করে মানুষের মৃত্য নিশ্চিত করা ছাড়া আর কিছুই দেখছি না।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আমাদের ধারনা মতে আমরা জানি আপনি কারো পরামর্শ গ্রহন করেন না। আপনি নিজে যেটা ভাল মনে করেন সেটাই করেন। যদি আপনি কারো পরামর্শ গ্রহন করতেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার অযোগ্য,অথর্ব মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতেন। তা যাই হোক একটা বিষয় পরিস্কার, আমরা যত যায় বলি না কেন আপনি যে তার কিন্চিৎ পরিমানে কর্নপাত করবেন না এটা আমরা অচিরেই বুঝে গেছি। তাই শেষবারের মত মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনাকে অনুরোধ করবো দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী চালু রাখার পাশাপাশি কিছু টেক্সটাইল মিল চালু রাখবেন, আর সেখানে শুধু মাত্র উৎপাদন করবেন কাফনের সাদা কাপড়। অন্তত মৃত্যর পর এই উপহার টুকু আপনার কাছ থেকে আমরা অবহেলিত দেশবাসী আশা করি।
আর যদি আমাদের ধারনা সত্যি না হয়, আপনি যদি কোন মহলের কাছে জিম্মি হয়ে থাকেন তাহলে আমরা একথা বলতে পারি মাননীয় সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন করোনার চেয়ে অধিক শক্তিশালী আমাদের সরকার। হয়তো কাদের সাহেবের সেই কথার দৃশ্যমান তেমন কোন প্রমান না পেলেও বর্তমানে একটা বিষয় প্রমান হতে চলেছে সেটা হল আমাদের দেশের সরকারের চাইতে অধিক শক্তিশালী এদেশের গার্মেন্টস মালিকেরা।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি যদি নিজেকে জনবান্ধব সরকার মনে করে থাকেন, আর যদি কোন প্রতিবন্ধকতার আপনি শিকার হয়ে থাকেন তাহলে সেটা আপনি অকপটে স্বীকার করে ফেলুন। দেখবেন এদেশের মানুষ আপনার পাশে দাঁড়াবে। তাই দয়া করে ১৮ কোটি মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে আরেকবার চেষ্টা করে দেখুন কিভাবে মানুষ গুলিকে হেফাজত করা যায়। আপনাকে স্বরণ রাখতে হবে দেশের মানুষ না বাঁচলে আপনার শিল্প বাঁচবে না। দেশের মানুষ না বাঁচলে আপনার অর্থনীতি সচল হবে না। মনে রাখবেন এদেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত। তাই আসুন আমরা এদেশের মানুষকে মুল্যবান সস্পদ মনে করে তাদের পাশে দাঁড়ায়।
সকলে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন। সেই সাথে সৃষ্টিকর্তার কাছে বিশ্ববাসীর জন্য দোয়া 

 লেখক --শেখ মিসকিন, মেহেরপুর

Thanks For You Reading The Post We are very happy for you to come to our site. Our Website Domain name https://www.atikurbd.com/.
নবীনতর পোস্টসমূহ নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ

আরও পোস্ট

২টি মন্তব্য