রাজপথে আজ ক্ষুধার্থ মিছিল

মিছিল

রাজপথে আজ ক্ষুধার্থ মিছিল
নিপুন নগরী

রাজপথে আজ ক্ষুধার্থ মিছিল, অনাহারী সমবেত মানুষের মিছিলের দীর্ঘ নিশ্বাস আরো ভাড়ী হয়।
মিছিলে মিছিলে ক্ষুধার্ত মানব পোস্টার।

অসহায় মানুষ খুঁজে মুক্তির পথ, সুদিনের আশায় বুক বাঁধে মানুষগুলো।
খাদ্য চাই, মুক্তি চাই, চাই আশ্রয়, পরিত্রাণ চাই।
মিছিলে মিছিলে অসহায় মানুষের ভীড়।

ন্যায্য দাবী করে পোষাক শ্রমিকেরা, রিক্সা শ্রমিক
দিন মজুর মেহনতী মানুষ গুলো ন্যায্য মূল্য চায়।
অনাহারী মানুষের ভীড় বাড়ছে!

মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় কিছু প্রার্থণা মুখর মানুষ মিছিলে আসে, ন্যায্য দাবী করে।
অনাহারী মানুষের মুখে খাদ্য চায়।

পারিশ্রমিক দাবী করে আজ মেহনতী মানুষগুলো।
যাঁদের খন্ড অংশে রচিত অর্থের মানদন্ড; অনিদ্রা ক্ষুধা যন্ত্রণা তাদের মিছিলে ক্লান্তি রচনা করে!
ন্যায্য চাই, খাদ্য চাই, মুক্তি চাই, আশ্রয় চাই, চাই পরিত্রাণ, ন্যায্য দেও মুক্তি দেও আহার চাই আহার।

শ্রমিকের নোনা ঘামে যাঁদের ক্ষুধা যন্ত্রণার কথা মনে পড়ে না, মৃত্যু ভয় মনে পড়ে না, তাঁদের বলি ক্ষুধার কষ্ট কতটা যন্ত্রণাময়, মনে হয় তপ্ত রোদ যেন অন্ন,
ক্লান্তির নোনা ঘাম যেন তৃষ্ণার আহার, মনে হয় খেয়ে ফেলি জগতটাকে অনাহারী দেহ বাঁচতে চায়।

মৃত্যু ভয় জয় করে মেহনতী ক্ষুধার্ত মানুষ গুলো রাজপথে নেমে আসে, ন্যায্য দাবী করে।

অনাহারী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে নিজের আহার তুলে দেয় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার।
গুটিকয় মানুষ ক্ষুধার্ত মিছিলে যোগদেয়।

সংবাদপত্র, নিউজ বুলেটিন আর ক্যামেরা ক্যামেরায় অসহায় মানুষগুলোর ছবি ফুটে উঠে।
মৃত্যুর মিছিলে সমবেত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
অনাহারী মানুষের মিছিল রাজপথে জড়ো হয়।

মেগা সপ গুলোতে দামী খাবার মজুদে ব্যস্ত মানুষ।
দৈনন্দিন জীবন নিত্য নৈমিত্তিক আহারে ব্যস্তসময়
রোজ মাংসের টুকরো মসলদার নতুন রেসেপি।
স্তরে স্তরে সাজানো খাদ্যের পাহাড় ডিঙিয়ে ক্ষুধা নাগাল পায় না রোজকার ঝঞ্জাট পূর্ন দিন।

সঞ্চয় গুনে গুনে দিন অতিবাহিত হয়; আরেকটি দিনের সুচনা করে ক্রান্তির মেঘ।
স্ক্রিনে ভাসে অনাহারী মানুষের ছবি, মৃত্যুর মিছিল
ভীনদেশী ছায়াছবি দেখে ব্যস্ত সময় পাড় হয় আরেকটি আলসে দিন; মৃত্যু ভয় কাটে না তবুও।

উদাসীন পৃথিবীর সচ্ছলতাহীন চোখ এড়িয়ে যায় সামগ্রিক ক্ষুধা আর মুক্তির পথ গুনে গুনে মৃত্যুর মিছিলে ঠাঁই হয় লাক্ষো মানুষের তবুও নিশ্চুপ বিশ্বামিত্র উদাসিনতা বাড়ে ক্ষুধা মুক্তির পথ নেই!

জানি একদিন সুদিন আসবে, কেটে যাবে ক্রান্তির মেঘ, পৃথিবী শীতল হবে, একদিন সুদিন আসবে।

কিছু অনাহারী মানুষগুলোর ক্ষুধার্থ চোখ, তাকিয়ে থাকে পৃথিবীর দিকে; মু্ক্তি চায়; মুক্তি চায়।

দ্রাক্ষারসে নিমজ্জিত জন্মোৎসব! আজ দেখি জনতার মিছিলের পড়ে ঘুমন্ত মানুষের আরশি মহল, বারামখানা পরিপূর্ণ উদাসীনতায়।

দিন গুনে গুনে মৃত্যুর মিছিলে সমবেত হয় আরো বেশি রোগাক্রান্ত মানুষগুলো, জীবন হেরে যায় মৃত্যুর কাছে, অনিশ্চিত দিনগুলো আরো সুদীর্ঘ হয়

বাতাসে ভাড়ী মৃত্যুর স্রোত ধরা দেয় চোখের গভীরে
শূন্যতা ভর করে এক অভিপ্রেত ক্রান্তিরেখা।

বাতাসে মৃত্যুর মিছিলের ছবি ভাসে, আকাশে মৃত্যু মেঘ, ক্রিন্তির জলোচ্ছ্বাস সুনামি।


জানি একদিন সুদিন আসবে, মুছে যাবে ক্রান্তির মেঘ; সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ক্ষুদার্থ শুন্যতা রয়ে যাবে বাতাসে, বলে যাবে মুক্তি পাইনি, আহার জোটেনি মিছিলে আজ অনেক ভীড়; দিন প্রবাহিত সময়ে ক্ষুধা যন্ত্রণা আর বৈষম্যের শিকার মানুষগুলো মুখ ফিরিয়ে নিবে চারিদেকের বিলাসিতা; বিলাসি অট্টালিকা আর স্ব-উদ্ভাবিত অনেক বিলাসী বিলাপে বিলুপ্ত হবে মেহনতী মানুষের ক্ষুদার্থ নিঃশ্বাসে ভাড়ী হবে সামগ্রিক পৃথিবীর সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থা--

এমনটা ক্রান্তিকাল আর দেখেনি; গোটা পৃথিবীর মানচিত্র।

আরেকটি সকালের কথা বলি, আরেকটি দিনের কথা বলি, গোটা একটা মাসের কথা বলি অথবা
বলি গোটা একটা জীবনের কথা।

মৃত্যু জীবনের কথা বলি, মৃত্যুর মিছিলের কথা বলি, ক্ষুধার কথা বলি, অনাহারী শব্দের কথা বলি, বুভুক্ষু চাদের কথা বলি, একটি কলমের কথা বলি,  স্বাধীনতার কথা বলি, মানুষের কথা বলি, মরণঘাতী 'কোভিড-১৯'- করনা রুগীর নিরাপত্তার কথা বলি, বাক স্বাধীনতার কথা বলি, স্বচ্ছতার কথা বলি, শক্তির কথা বলি।

জানি একদিন সুদিন আসবে, কেটে যাবে ক্রান্তির মেঘ, বাতাসে কিছু মৃত্যুর কথা শুনি, কিছু সুদিনের কথা শুনি, আলোকিত মানুষের কথা শুনি।

ঘুমন্ত মানুষের চোখ এড়িয়ে আজও রাজপথে হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিল মুক্তি দাবী করে।।
Thanks For You Reading The Post We are very happy for you to come to our site. Our Website Domain name https://www.atikurbd.com/.
নবীনতর পোস্টসমূহ নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ

আরও পোস্ট

মন্তব্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন