উপজেলায় উপজেলায় ক্ষেতমজুর সমিতির কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান



করোনা-মহাসংকটে বিপন্ন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের বাঁচানোর দাবিতে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি উপজেলায় উপজেলায় আজ ২০ মে বুধবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি শেষে ১০ দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
পঞ্চগড় সদর, বোদা, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী, ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, নীলফামারী সদর, লালমনিরহাট সদর, আদিতমারি, কালিগঞ্জ, হাতিবান্ধা, কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাহপুর, দিনাজপুর সদর, বিরামপুর, ফুলবাড়ি, মিঠাপুকুর, কাউনিয়া, পীরগাছা, বগুড়া সদর, ধুনট, নওগাঁ সদর, মান্দা, মহাদেবপুর, রাণীনগর, আত্রাই, সিরাজগঞ্জ সদর রায়গঞ্জ, কাজীপুর, তাড়াস, মাগুরা সদর, মানিকগঞ্জ সদর, হরিরামপুর, সিংগাইর, রাজবাড়ি সদর, মধুখালী, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভপুর, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, নেত্রকোণা সদর, খালিয়াজুড়ি, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর সদর, ঝিনাইগাতি, শ্রীবর্দী, কিশোরগঞ্জ সদর, কটিয়াদি, করিমগঞ্জ, চান্দিনা, দেবীদ্বার, বুড়িচং, ব্রাক্ষণপাড়া, নোয়াখালী সদর, সোনাইমুড়ী, কোম্পানিগঞ্জসহ দুই শতাধিক উপজেলায় এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এসব কর্মসূচিতে ক্ষেতমজুর নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পরিবার নিয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাঁদের দিন পার করতে হচ্ছে। একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে ক্ষুধার তাড়নায় ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুররা এখন দিশেহারা। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে দ্রæতই পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং না খেতে পেয়ে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটবে। সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মানুষ বাঁচাতে অবিলম্বে সরকারকে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ১০ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ : ২ কোটি কর্মহীন দুঃস্থ পরিবারের তালিকা করে প্রয়োজনে সেনা-সহায়তায় ঘরে ঘরে আগামী ৩ মাস বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা, তালিকা করার কমিটিতে ক্ষেতমজুর প্রতিনিধি রাখা, ইউনিয়ন পরিষদের অফিসগুলোতে সর্বসম্মুখে টাঙিয়ে দেয়া; স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে, খসড়া তালিকাটিকে যাচাই করে দেখার জন্য অন্তত ৭ দিন তা জনসমক্ষে রাখার পর সেই তালিকা চ‚ড়ান্ত করে, তালিকাভুক্ত ২ কোটি পরিবারকে স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং নিয়মিতভবে তাঁদেরকে ‘কন্ট্রোল দামে’ রেশন প্রদান; করোনা মোকাবিলা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ক্ষেতমজুরদেরকে ৭ দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগপূর্বক ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা গণ-ব্রিগেড’ গঠন করা; এ সময়কালে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গ্রামের গরিব মেহনতি পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাসহ কর্মক্ষেত্রে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; করোনা-কালীন সময়ে ও বজ্রপাতে কারও মৃত্যু হলে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা প্রদান; মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অথবা উপযুক্ত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা; ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের দৈনিক মজুরি কমপক্ষে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সম-কাজে সম-মজুরি নিশ্চিত করা; ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের কর্মসৃজন প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা ভাতা, খাদ্য নিরাপত্তা (পল্লি রেশনিং) এবং নিখরচায় শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য আগামী বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা; গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে গরিব শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে ‘তোলা’ আদায় বন্ধ করা, গ্রামে-গঞ্জে রিকশা, ভ্যান, ভটভটি, অটোচালক প্রমুখদের কাছ থেকে বেআইনি চাঁদা আদায় বন্ধ করা; গ্রামের প্রান্তিক কৃষক, কিংবা অল্প জমি লিজ বা ভাড়া নিয়ে যেসব কৃষক ধান উৎপাদন করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি সরকার বেঁধে দেওয়া ২৬ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয় করা, কৃষকদের জন্য ঘোষিত সরকারি প্রণোদনার টাকা সরাসরি খোদ কৃষককে প্রদান; ক্ষেতমজুরদের সব ঋণ/ কিস্তি (মহাজনী, এনজিও, ব্যাংক ঋণ) মওকুফ করাসহ করোনা-পরবর্তী সময়ে তাঁদের জন্য বিনা মর্টগেজে সুদমুক্ত সরকারি ঋণ প্রদান।
 ২০ মে ২০২০
Thanks For You Reading The Post We are very happy for you to come to our site. Our Website Domain name https://www.atikurbd.com/.
নবীনতর পোস্টসমূহ নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ

আরও পোস্ট

মন্তব্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন