জেনে নিন প্লাজমা থেরাপি সম্পর্কে।

প্লাজমা


প্লাজমা থেরাপি কী?

মানুষের রক্তের জলীয় অংশকে বলা হয় প্লাজমা বা রক্তরস। রক্তের মধ্যে প্রায় ৫৫ ভাগই থাকে হলুদাভ রঙের এই প্লাজমা।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে যারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের শরীরে এক ধরণের অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার তৈরি হয়।
তাদের শরীর থেকে প্লাজমার মাধ্যমে সংগ্রহ করা এই অ্যান্টিবডি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তখন তার শরীরের সেই অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তখন তিনিও সুস্থ হয়ে ওঠেন।
চিকিৎসকরা এভাবেই করোনাজয়ী একজনের শরীর থেকে প্লাজমা বা রক্তরস সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করবেন। ফলে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।
ডা: এম এ খান বিবিসিকে বলছেন, ''প্লাজমায় অনেক ধরণের অ্যান্টিবডি থাকে। যখন কেউ কোন রোগে আক্রান্ত হন, তখন সেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বিরুদ্ধে এ ধরণের অ্যান্টিবডি প্রোটিন তৈরি হয়। ওই প্রোটিন জীবাণুর চারপাশে এক ধরনের আবরণ তৈরি করে সেটাকে অকেজো করে ফেলে। এভাবেই অ্যান্টিবডি কাজ করে।''
প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে একজনের শরীরের কার্যকর অ্যান্টিবডি অন্যদের শরীরের স্থানান্তর করা হবে।




Image copyrightGOOGLE STREET VIEWঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্লাজমা থেরাপির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে
Image captionঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্লাজমা থেরাপির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে

কীভাবে দেয়া হবে প্লাজমা থেরাপি

চিকিৎসকরা আশা করছেন একজন সুস্থ রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা দুই থেকে তিনজন অসুস্থ রোগীকে দেয়া সম্ভব হবে।
শনিবার তিনজন করোনাজয়ী চিকিৎসকের শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের শরীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি থাকা ৪৫ জনের শরীরে প্রয়োগ করা হবে।
ডা. এম এ খান বলছেন, "আপাতত কয়েকদিন আমরা শুধু প্লাজমা সংগ্রহ করবো। এসব প্লাজমায় কতটা অ্যান্টিবডি রয়েছে সেটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেটা একটা বিশেষ রিএজেন্ট ব্যবহার করে করতে হয়, সেগুলো স্পেন থেকে আনানো হয়েছে।"
"এরপরে কোন ধরণের রোগীকে সেই প্লাজমা দেয়া হবে, সেটা বাছাই করতে হবে। শুরুতে আমরা গুরুতর অসুস্থ বা মুমূর্ষু রোগীদের দিতে চাই, বিশেষ করে যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে।''
''এভাবে ৪৫ জন রোগীর শরীরে এই প্লাজমা প্রয়োগের পর আমরা কার্যকারিতা দেখবো। কতটা কাজ করছে, কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, জ্বর কমলো কিনা, নিউমোনিয়ার কি অবস্থা ইত্যাদি। পাশাপাশি অপর ৪৫ রোগী বাছাই করে নিয়ে তাদের উন্নতির বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি দেখা যায়, প্লাজমা থেরাপিতে ভালো কাজ হচ্ছে, তখন এটা বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা শুরু হবে। ''
''এমন না যে, শতভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এটা কাজ করবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের তো কোন কার্যকর চিকিৎসার উপায় নেই। ফলে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করে দেখতে অসুবিধা নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই প্লাজমা থেরাপির ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। আইসিইউতে নেয়ার আগে এই থেরাপির প্রয়োগ করা গেলে ভালো ফলাফল আসতে পারে।''
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব, ভারত, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশে সফলভাবে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ করা হয়েছে। সেখানে সাফল্যের হার বেশ ভালো। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে।
''হাসপাতালে ভর্তির পর যেসব রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাদের যদি এক ব্যাগ বা ২০০ মিলিমিটার পরিমাণ প্লাজমা দেয়া যায়, তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। কারণ প্লাজমা শরীরের রক্তের মধ্যে যে ভাইরাস থাকে, তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।'' তিনি বলছেন।
এই গবেষণার জন্য তাদের ছয় মাস সময় দেয়া হলেও, ডা. খান আশা করছেন, দু'মাসের মধ্যেই তারা তাদের পরীক্ষা শেষ করতে পারবেন। জুন মাসের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরণের রোগীর ওপর এটি প্রয়োগ করা যাবে বলে তারা আশা করছেন।
গত এপ্রিল মাসে এই বিষয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশের স্থাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই কমিটির প্রধান করা হয় অধ্যাপক ডা. এম এ খানকে।
Thanks For You Reading The Post We are very happy for you to come to our site. Our Website Domain name https://www.atikurbd.com/.
নবীনতর পোস্টসমূহ নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ

আরও পোস্ট

মন্তব্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন